কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো কলা চেনার সহজ উপায়!
কলা আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার একটি পরিচিত ও পুষ্টিকর ফল। পটাশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন এ এবং আয়রন সমৃদ্ধ এই ফল শরীরকে শক্তিশালী রাখে, হজমশক্তি বাড়ায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে। কিন্তু সম্প্রতি বাজারে সহজলভ্য হলেও অনেক কলা স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দ্রুত বাজারজাত করার জন্য অনেক ব্যবসায়ী কলা পাকাতে ব্যবহার করছেন বিপজ্জনক কেমিক্যাল, যা স্বাভাবিক পাকা কলার সঙ্গে মিলবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারের বেশিরভাগ কলা ক্যালসিয়াম কার্বাইড, তরল ইথাইলিন, ইথারজাতীয় রাসায়নিক বা অনুরূপ কেমিক্যাল দিয়ে দ্রুত পাকানো হয়। এসব কেমিক্যাল কেবল কলাকে দ্রুত পাকায় না, বরং কলার ভেতরের অংশ অনেক সময় কাঁচা থাকে। ফলস্বরূপ হজমের সমস্যা, মাথা ঘোরা, বমিভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হয়। প্রাকৃতিকভাবে ধীরে পাকলে কলার ভেতরের এনজাইমগুলো সক্রিয় হয়, পুষ্টি পুরোপুরি বিকশিত হয় এবং স্বাদ ও গন্ধ হয় নিখুঁত।
কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো কলা চিনবেন যেভাবে:
১. রং দেখে পার্থক্য করুন:
প্রাকৃতিকভাবে পাকা কলা হালকা হলুদ রঙের হয়, গায়ে থাকে ছোট ছোট কালো দাগ। এটি প্রমাণ করে যে কলা ধীরে ধীরে পেকেছে।
কিন্তু কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো কলা খুব উজ্জ্বল হলুদ বা একরঙা কমলা-হলুদ, যা স্বাভাবিক কলার রঙের সঙ্গে মেলে না।
২. গন্ধই আসল ইঙ্গিত:
প্রাকৃতিক কলার গন্ধ মিষ্টি ও তাজা।
কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো কলায় সাধারণত গন্ধ থাকে না বা থাকে অস্বাভাবিক তীব্র, কৃত্রিম ধরনের, যা খাওয়ার আগেই সন্দেহ জাগায়।
৩. পানিতে ভাসানোর পরীক্ষা:
কলাকে পানি ভর্তি পাত্রে ফেলুন। কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো কলা প্রায়শই ভেসে থাকে, কারণ ভেতরে কৃত্রিমভাবে পাকানোর সময় বাতাসের ফাঁক তৈরি হয়।
প্রাকৃতিকভাবে পাকা কলা তুলনামূলকভাবে ঘন এবং সাধারণত পানিতে ডুবে যায়।
প্রাকৃতিকভাবে পাকা কলা শুধু সুস্বাদু নয়, বরং স্বাস্থ্যকরও। তাই বাজারে কলা কেনার সময় বাহ্যিক চকচিক্য দেখে নয়, রং, গন্ধ ও গঠনের ওপর মনোযোগ দিন। এই সচেতনতা আপনাকে কেমিক্যালযুক্ত কলার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করবে।
