নতুন পোশাক পরার আগে কেন ধোয়া জরুরি

নতুন পোশাক পরার আগে কেন ধোয়া জরুরি


নতুন কেনা কাপড় পরার আগে অবশ্যই ধুয়ে নেওয়া উচিত। বাইরে থেকে একেবারে নতুন ও পরিষ্কার মনে হলেও এসব কাপড়ে জীবাণু, ক্ষতিকর রাসায়নিক, ধুলাবালি ও ময়লা থাকতে পারে। কাপড় তৈরির প্রক্রিয়া খুবই জটিল এবং এটি সাধারণত একাধিক দেশে সম্পন্ন হয়। এই দীর্ঘ যাত্রায় কাপড় অনেক মানুষের হাতে যায়, গুদামে থাকে, পরিবহন করা হয় এবং নানা রাসায়নিক ব্যবহারের মধ্য দিয়ে যায়। ফলে কাপড়ে ক্ষতিকর উপাদান থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।



রিডার্স ডাইজেস্ট-এর একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে—শুধু রাসায়নিক নয়, নতুন কাপড়ে জীবাণুও থাকতে পারে। উৎপাদন, পরিবহন ও দোকানে রাখার সময় কাপড় বিভিন্ন পরিবেশের মধ্য দিয়ে যায়। এ সময় ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস কাপড়ে লেগে থাকতে পারে।



নতুন কাপড়ে ক্ষতিকর রাসায়নিক

নতুন কাপড়ে অতিরিক্ত রং, ফিনিশিং রাসায়নিক এবং কুঁচকে যাওয়া রোধে ব্যবহৃত উপাদান থাকতে পারে। বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে কাপড় তৈরির প্রতিটি ধাপে কী কী রাসায়নিক ব্যবহার হয়েছে, তা জানা কঠিন। অনেক সময় পোশাকের ট্যাগে শুধু কোথায় সেলাই বা প্রস্তুত করা হয়েছে, সে তথ্যই থাকে। কিন্তু সুতা থেকে শুরু করে শেষ ধাপ পর্যন্ত ব্যবহৃত রাসায়নিকের পূর্ণ বিবরণ সেখানে থাকে না।



দামি বা উন্নত মানের পোশাক কিনলেও পুরোপুরি নিরাপদ হওয়া নিশ্চিত নয়। এসব পোশাক মান নিয়ন্ত্রণে ভালো হলেও উৎপাদনের সময় একই ধরনের যন্ত্রপাতি, তেল, সংরক্ষণ ও পরিবহনের মধ্য দিয়েই যায়। তাই দাম কম বা বেশি যাই হোক, সংবেদনশীল ত্বকের মানুষের জন্য নতুন কাপড় ধুয়ে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।


জৈব বা অর্গানিক কাপড় কি নিরাপদ

অনেকে মনে করেন, জৈব বা অর্গানিক কাপড়ে রাসায়নিক থাকে না। বাস্তবে তা সব সময় সত্য নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, জৈব ও সাধারণ উভয় ধরনের কাপড়েই ক্ষতিকর রাসায়নিক পাওয়া যেতে পারে। তবে ধোয়ার পর এসব রাসায়নিক অনেকাংশে দূর হয়ে যায়। তাই জৈব হলেও নতুন কাপড় ধোয়া জরুরি।



নতুন কাপড়ে জীবাণু

নতুন কাপড়ে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় স্ট্যাফাইলোকক্কাস নামের ব্যাকটেরিয়া, যা সাধারণত মানুষের ত্বকে থাকে। এ ছাড়া হাত ঠিকভাবে না ধোয়ার কারণে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়াও থাকতে পারে। অসুস্থ মানুষের সংস্পর্শে এলে কিছু ভাইরাসও কাপড়ে লেগে থাকতে পারে।



কাপড় তৈরির প্রতিটি ধাপে মানুষের হাতের সংস্পর্শ প্রয়োজন হয়। এই সংস্পর্শ থেকেই জীবাণু কাপড়ে ছড়াতে পারে। তাই না ধুয়ে নতুন কাপড় পরা একটি বড় ভুল।



স্বাস্থ্যের জন্য কেন এটি ঝুঁকিপূর্ণ

নতুন কাপড়ে থাকা জীবাণু ত্বকের সংক্রমণ ঘটাতে পারে। শিশু, বয়স্ক মানুষ ও যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি। এ ছাড়া আগে কেউ কাপড়টি পরখ করে থাকলে বা দোকানে ধরাধরি হলে সেখান থেকেও ভাইরাস ছড়াতে পারে। শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণসহ বিভিন্ন অসুখের জীবাণু কাপড়ের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে।



রাসায়নিক উপাদানও ত্বক, চোখ ও নাকের জন্য ক্ষতিকর। কিছু রাসায়নিক দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। সাধারণ ধোয়াতেই এসব ক্ষতিকর উপাদান অনেকটাই দূর হয়।



কিছুদিন রেখে দিলে কি ধোয়া ছাড়াই পরা যাবে

অনেকে ভাবেন, নতুন কাপড় কিছুদিন রেখে দিলে জীবাণু নষ্ট হয়ে যাবে। বাস্তবে ভাইরাস কিছুদিন পর নষ্ট হলেও ব্যাকটেরিয়া অনেক মাস বেঁচে থাকতে পারে। আর ক্ষতিকর রাসায়নিক তো আরও দীর্ঘ সময় কাপড়ে থেকে যায়। তাই অপেক্ষা করলেও ধোয়া এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।



নতুন কাপড় ধোয়ার সঠিক উপায়

কাপড়ের লেবেলে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী ধোয়া সবচেয়ে ভালো। হালকা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা উচিত। রঙিন কাপড় আলাদা করে ধোয়া দরকার, কারণ নতুন কাপড়ে অতিরিক্ত রং বের হতে পারে। প্রথম ধোয়ায় রং ছাড়লে আবার ধোয়া নিরাপদ। কাপড় উপযোগী হলে ড্রায়ারে শুকানো ভালো, কারণ তাপে অনেক জীবাণু নষ্ট হয়।



কাপড়ে দুর্গন্ধ থাকলে কী করবেন

নতুন কাপড়ে যদি স্যাঁতসেঁতে বা ধোঁয়ার মতো গন্ধ থাকে, তাহলে বুঝতে হবে এটি ভালো পরিবেশে রাখা হয়নি। এমন কাপড় অবশ্যই ধুয়ে নিতে হবে। তবে যদি তীব্র রাসায়নিক গন্ধ থাকে, তাহলে সেই পোশাক ব্যবহার না করাই ভালো।



নতুন কাপড় দেখতে যতই পরিষ্কার লাগুক, সেটি পরার আগে ধোয়া অত্যন্ত জরুরি। এতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও জীবাণু দূর হয় এবং ত্বক ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। দামি, সাধারণ বা জৈব যে কোনো পোশাকের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য। সামান্য সতর্কতাই ভবিষ্যতের বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে। Source: www.asia-post.com