চাকরি ছেড়ে ড্রাগন ফলের বৃহৎ বাগান: ৬০ জনের কর্মসংস্থান
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা গ্রামে এক তরুণ উদ্যোক্তা হেদায়েত হোসেন শিপলুর সাফল্যের গল্প এখন আলোচনার কেন্দ্রে। প্রকৃতিপ্রেমী ও কৃষি উদ্যোক্তা হেদায়েত ২০২৪ সালে পতিত জমিতে ড্রাগন ফল বা ড্রাগনফ্রুট চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার ৫০ বিঘা জমির বাগানে রয়েছে লক্ষাধিক গাছ, যা জেলার অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক ড্রাগন বাগান হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
এই বাগানের বিশেষত্ব হলো এখানে পাঁচটি ভিন্ন জাতের ড্রাগন ফল চাষ করা হচ্ছে, যার মধ্যে থাই, বারী-১, ভিয়েতনাম, হলুদ ও পলেরা জাত রয়েছে। এ বছর প্রথমবারের মতো বাগানটি পূর্ণ ফলন দিয়েছে। প্রতি কেজি ড্রাগন ফল ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফল তোলা, বাছাই ও প্যাকেটজাত করার কাজে এখানে প্রায় ৬০ জন স্থানীয় শ্রমিক নিয়মিত কর্মসংস্থান পাচ্ছেন। শ্রমিকদের অধিকাংশই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী ও পুরুষ।
হেদায়েতের মতে, প্রবাসী বা সরকারি চাকরির নিশ্চয়তা ছেড়ে কৃষিকে বেছে নেওয়া তার জন্য একটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। চাকরি করলে হয়তো শুধু নিজের পরিবার চলত, কিন্তু কৃষি উদ্যোগে স্থানীয় মানুষের জীবিকার নতুন পথ তৈরি হয়েছে। যদিও তিনি জানান যে, আধুনিক ফল চাষে কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রত্যাশিত কারিগরি সহযোগিতা সবসময় পাওয়া যায়নি। তবুও, সরকারি সহায়তা বাড়লে এই অঞ্চলে ড্রাগন চাষের পরিধি আরও দ্রুত বাড়বে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম সাদিকুর ইসলাম জানান, বর্তমানে জেলায় প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষ হচ্ছে। হেদায়েতের বাগানটি এখানকার অন্যতম বড় উদ্যোগ যা কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
