৭৭ দেশে নিষিদ্ধ, বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণে ব্যবহৃত হচ্ছে বিষাক্ত আগাছানাশক প্যারাকোয়াট
কৃষিক্ষেত্রে আগাছা দমনের জন্য ব্যবহৃত অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক ‘প্যারাকোয়াট’ বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৩ সালে দেশে এই রাসায়নিক পান করে মৃত্যুর মাত্র একটি ঘটনা রেকর্ড করা হলেও, ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১২-তে। বিশ্বের ৭৭টি দেশে এই বিষাক্ত রাসায়নিকটি নিষিদ্ধ থাকার পরেও বাংলাদেশে এর আমদানি ও ব্যবহার জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে মাত্র ৫৩ টন প্যারাকোয়াট আমদানি হলেও, ২০২৩ সালে তা বেড়ে ৪ হাজার ৬৯৫ টনে দাঁড়ায়। কৃষকরা হাতে কাজ করে আগাছা পরিষ্কারের বদলে সময় ও শ্রম বাঁচাতে এই রাসায়নিকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। ফলে গ্রামাঞ্চলে আত্মহত্যার উপকরণ হিসেবে এর ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে করা একটি গবেষণায় ১০টি হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণ করে ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪২০টি বিষক্রিয়ার ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষকরা জানান, মাত্র ১০ থেকে ২০ মিলিলিটার প্যারাকোয়াট পান করলেই ফুসফুস ধীরে ধীরে অকাজ হয়ে যায় এবং কয়েক সপ্তাহ ধরে ধুঁকে ধুঁকে যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর হার প্রায় ৪৩ শতাংশ, যার বেশিরভাগই ১২ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণ, শিক্ষার্থী এবং গৃহিণী।
গবেষকরা এবং টক্সিকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক মো. আবুল ফয়েজ এই রাসায়নিকটি অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা指出, পারকিনসনস রোগ এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের সাথে এর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, বিষাক্ত রাসায়নিকের ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে রিপোর্ট আসবে। প্রমাণিত হলে নিষিদ্ধের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
বিজ্ঞানীরা জানান, দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০০৬ সালে এটি নিষিদ্ধ করার পর আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুর হার প্রায় অর্ধেক কমে যায়। বাংলাদেশে এর বিকল্প হিসেবে ইনটিগ্রেটেড উইড ম্যানেজমেন্ট, যান্ত্রিক আগাছা দমন এবং তুলনামূলক কম বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
