স্টিভ জবসের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল যে সিনেমা!
স্টিভ জবসের নাম বললেই মনে পড়ে অ্যাপল, আইফোন বা ম্যাকবুক। কিন্তু তার জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্যের একটি আসলে প্রযুক্তির জগতে নয়, বরং সিনেমার দুনিয়ায়। সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে 'টয় স্টোরি' ফ্র্যাঞ্চাইজির পঞ্চম কিস্তি আসার পরেও, ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম কিস্তির গল্পটি আজও উল্লেখযোগ্য। কারণ, এই ছবিটিই স্টিভ জবসের ভাগ্য বদলে দিয়েছিল এবং তাকে আবার বিশ্ববাসীকে প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচয় করিয়ে দেয়।
১৯৮৫ সালে অ্যাপল থেকে বহিষ্কারের পর জবস হতাশ হননি। তিনি ১৯৮৬ সালে জর্জ লুকাসের লুকাসফিল্মের কম্পিউটার গ্রাফিক্স বিভাগটি কিনে নেন এবং এর নাম দেন পিক্সার। তখন এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত উচ্চশক্তির গ্রাফিক্স কম্পিউটার তৈরির ব্যবসা করত, যা খুব একটা লাভজনক ছিল না। জবস নিজের ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন, তবুও পিক্সারের ভবিষ্যৎ তখনও অনিশ্চিত ছিল।
সেই সময়েই পিক্সারের সৃজনশীল দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন জন ল্যাসেটার, কম্পিউটার অ্যানিমেশন দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র তৈরির স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। এটি ছিল এক বিশাল ঝুঁকি। সফল হলে নতুন শিল্পের দরজা খুলে যাবে, আর ব্যর্থ হলে জবসের বহু বছরের বিনিয়োগ পানি হয়ে যাবে। ১৯৯১ সালে ডিজনির সাথে চুক্তি করার পর এই স্বপ্ন রূপ নেয় 'টয় স্টোরি'-র আকারে।
ছবির প্রাথমিক পর্যায়ে ডিজনির পক্ষ থেকে সমালোচনা আসে এবং গল্প পুনর্লিখনের নির্দেশ দেওয়া হয়। উডি ও বাজ লাইটইয়ারের চরিত্রের মধ্যে বন্ধুত্ব ও দ্বন্দ্বের গল্পটি পরিশোধিত হওয়ার পর ছবিটি দর্শকদের মুগ্ধ করে। ১৯৯৫ সালের ২২ নভেম্বর বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ কম্পিউটার অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র হিসেবে 'টয় স্টোরি' মুক্তি পায়। প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলারের বাজেটে তৈরি এই ছবিটি বিশ্বজুড়ে ৩৬৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে এবং ১৯৯৫ সালের সর্বোচ্চ আয়কারী ছবির তালিকায় শীর্ষে ওঠে।
এই সাফল্যের পরপরই ১৯৯৫ সালের ২৯ নভেম্বর পিক্সার শেয়ার বাজারে প্রবেশ করে। শেয়ারের দাম প্রাথমিক ২২ ডলার থেকে বেড়ে দিনশেষে ৩৯ ডলারে পৌঁছায় এবং পিক্সারের বাজার মূল্য প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। এই ঘটনাটি স্টিভ জবসকে দ্রুত কোটিপতি থেকে বিলিয়নেয়ারে পরিণত করে। এরপর পিক্সারের 'আ বগস লাইফ', 'টয় স্টোরি ২', 'ফাইন্ডিং নিমো'র মতো হিট ছবির ধারাবাহিকতায় জবসের ব্যবসায়িক খ্যাতি আরও বাড়তে থাকে।
পরিশেষে, ২০০৬ সালে ডিজনি প্রায় ৭.৪ বিলিয়ন ডলারে পিক্সারকে কিনে নেয়। এই লেনদেনের মাধ্যমে জবস ডিজনির সবচেয়ে বড় একক শেয়ারহোল্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন এবং তার পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেন। অ্যাপল থেকে বের হয়ে যাওয়া স্টিভ জবসের এই পথচলা প্রমাণ করে যে, 'টয় স্টোরি' শুধু অ্যানিমেশনের ইতিহাসে একটি মাইলফলক নয়, বরং এটি জবসের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুনরুত্থানের গল্প।
